টিপস এন্ড ট্রিকস

বিসিএস চাকরি নির্দেশনা ও প্রস্তুতি

 

বিসিএস চাকরি নির্দেশনা ও প্রস্তুতি

[নিম্নে উল্লেখিত নির্দেশনা ও প্রস্তুতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত সর্বশেষ পরীক্ষার আলোকে প্রদান করা হয়েছে। কাজেই চাকরিতে আবেদন করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট চাকরির নির্দেশনা অবশ্যই ভালোভাবে পড়ে নিন।]

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন একটি স্বতন্ত্র স্বধীন  সাংবিধানিক সংস্থা। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৭নং অনুচ্ছেদে এক বা একাধিক কর্ম কমিশন গঠন করার কথা বলা হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মচারী, প্রশাসনের কর্মচারী নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও অন্যান্য বিষয়াদি নির্ধারণ করা এ কমিশনের প্রধান কাজ। ১৯৭৭ পর্যন্ত দুটি কর্ম কমিশন ছিল প্রথম ও দ্বিতীয় কর্ম কমিশন। প্রথম কর্ম কমিশন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর এবং দ্বিতীয় কর্ম কমিশন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সংক্রান্ত বিষয়াদি সংশ্লিষ্ট ছিল। তবে বর্তমানে দুটি কমিশন একীভূত হয়ে একটি কমিশনের মতই কাজ করে।

কমিশনের গঠন
রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত একজন চেয়ারম্যান ও কয়েকজন সদস্য নিয়ে কমিশন গঠিত। দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর বা তার বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত এর মধ্যে যেটি আগে ঘটবে সে পর্যন্ত তিনি নিজ পদে বহাল থাকবেন। কমিশনের সদস্যদের অর্ধেক এমন হবে যারা কমপক্ষে ২০ বছর অন্য কোনো সরকারি কর্মে নিয়োজিত ছিলেন।

কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ
১৯৭৭ সালে জারিকৃত রাষ্ট্রপতির এক অধ্যাদেশে চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১৫ (ন্যূনতম ৬) নির্ধারণ করা হয়েছে। পিএসসিতে সদস্য হিসেবে নিয়োগ লাভের জন্য বিশেষ যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। তবে কমিশনের মোট সদস্যের অন্তত অর্ধেক থাকবেন ন্যূনতম ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকারি কর্মকর্তা। সাধারণত সরকারি বিভাগ থেকে নিযুক্ত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা সকলেই শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হন এবং অন্যদের অধিকাংশই থাকেন প্রবীণ শিক্ষাবিদ।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডারসমূহ
১ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সরকার সিভিল সার্ভিস কাঠামোকে ১৪টি ক্যাডারে এবং ২২টি সাব-ক্যাডারে (সর্বমোট ২৮টি ক্যাডারে ও সাব ক্যাডারে) পুনর্গঠিত করে। এরপর সিভিল সার্ভিসকে মোট ৩০টি ক্যাডারে বিভক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে সরকার বিসিএস (সচিবালয়) ক্যাডারকে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সাথে একীভূত করায় সিভিল সার্ভিস ক্যাডারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯টিতে। ২০০৭ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (বাজুসাক)-এর কাছে ন্যস্ত করায় বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ক্যাডারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮টিতে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ইকোনমিক ক্যাডারকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের সাথে একীভূত করায় ক্যাডারের সংখ্যা ২৬টিতে উন্নীত হয়।

বিসিএস-এর ২৬টি ক্যাডারের নাম (ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে)

 ১  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন)  সাধারণ ক্যাডার
 ২ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি)  কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ৩  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (আনসার)  সাধারণ ক্যাডার
 ৪  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (নিরীক্ষা ও হিসাব) সাধারণ ক্যাডার
 ৫  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সমবায়)  সাধারণ ক্যাডার
 ৬  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (শুল্ক ও আবগারি)  সাধারণ ক্যাডার
 ৭  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পরিবার পরিকল্পনা)  সাধারণ ক্যাডার
 ৮  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (মৎস্য)  কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ৯  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (খাদ্য)  সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ১০  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পররাষ্ট্র)  সাধারণ ক্যাডার
 ১১  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বন)  কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ১২  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা)  কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ১৩  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (স্বাস্থ্য)  কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ১৪  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (তথ্য)  সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ১৫  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পশু সম্পদ)  সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ১৬  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পুলিশ)  সাধারণ ক্যাডার
 ১৭  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ডাক)  সাধারণ ক্যাডার
 ১৮  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল)  কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ১৯  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (গণপূর্ত)  কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ২০  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (রেলওয়ে প্রকৌশল)  কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ২১  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক)  সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ২২  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সড়ক ও জনপথ)  কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ২৩  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পরিসংখ্যান)  কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ২৪  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কর)  সাধারণ ক্যাডার
 ২৫  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কারিগরি শিক্ষা)  কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
 ২৬  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বাণিজ্য)  সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার

 

বিসিএস পরীক্ষা সম্পর্কে নির্দেশনা

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারি-বেসরকারি চাকরির মধ্যে সবচেয়ে সম্মানজনক ও মর্যাদাকর হলো বিসিএস ক্যাডার সার্ভিস। তাই প্রতি বছরই দেখা যায়, বিসিএস পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলছে এবং ক্যাডার সার্ভিসে অন্তর্ভুক্তির জন্য খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হচ্ছে। এ ধরনের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ব্যাপক ও বড় ধরনের প্রস্তুতি না নিলে সাফল্য লাভ দুরূহ। আর এজন্য প্রয়োজন তীব্র ইচ্ছাশক্তি, নিরলস পরিশ্রম, দীর্ঘমেয়াদি অধ্যবসায় ও ধৈর্য। একজন প্রার্থীকে বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ পেতে হলে অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করে আসতে হয়। যেমন- ১. আবেদনপত্র পূরণ , ২. প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, ৩. লিখিত পরীক্ষা, ৪. ভাইভা, ৫. স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ৬. পুলিশ ভেরিফিকেশন। এর একটিতেও যদি কেউ ব্যর্থ হন অথবা অংশগ্রহণ না করেন, তাহলে তিনি নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন না। নিচে পর্যায়ক্রম অনুসারে ধাপগুলো আলোচনা করা হলো :

০১. আবেদনপত্র পূরণ
বিজ্ঞপ্তি পড়ে নেয়ার পর প্রার্থীর প্রথম কাজ হবে আবেদনপত্র অনলাইনে পূরণ ও জমা দেয়া। আবেদনপত্র পূরণে ভুল হলে বা অসম্পূর্ণ থাকলে তা সরাসরি বাতিল হয়ে যায়। তাই এক্ষেত্রে প্রার্থীর খুবই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

০২. প্রিলিমিনারি অবজেকটিভ টেস্ট
(ক)    নতুন নিয়ম অনুসারে প্রার্থীদের ২০০ নম্বরের একটি লিখিত (MCQ) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রশ্নের ধরন হব নৈর্ব্যক্তিক (অবজেকটিভ টাইপ) এবং কম্পিউটারের মাধ্যমে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।
(খ)    এই পরীক্ষায় মোট ২০০টি প্রশ্ন থাকবে এবং প্রতিটি প্রশ্নের মান ১। পরীক্ষার জন্য পূর্ণ সময় দেয়া হবে ২ ঘণ্টা। প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫ নম্বর কাটা যাবে।
(গ)    যেসব বিষয়ের উপর প্রশ্ন করা হয় : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, English Language & Literature, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, ভূগোল ( বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা,সাধারন বিজ্ঞান,কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি, গানিতিক যুক্তি,মানসিক দক্ষতা,নৈতিক মূল্যবোধ ও সু-শাসন
(ঘ)    বিসিএস প্রিলিমিনারি (অবজেকটিভ) টেস্ট সাধারণত ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। সঠিক তারিখ, সময় ও আসন ব্যবস্থা (পরীক্ষা হলের নামসহ) যথাসময়ে পিএসসি´র ওয়েবসাইটও খবরের কাগজের মাধ্যমে জানানো হয়।
(ঙ)    উত্তরপত্রে প্রশ্নপত্রের সেট কোড নম্বর না লিখলে অথবা ভুল লিখলে উত্তরপত্র বাতিল হবে।

০৩.  লিখিত পরীক্ষার বিষয়সমূহ ও নম্বর বণ্টন (মোট নম্বর ১১০০)
যে সকল প্রার্থী প্রিলিমিনারি (অবজেকটিভ) টেস্টে উত্তীর্ণ হন শুধু তারাই বিসিএস-এ লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। নতুন পদ্ধতিতে সাধারণ ও প্রফেশনাল দু´ধরনের ক্যাডারের প্রার্থীদের পরীক্ষা দুভাগে অনুষ্ঠিত হয়।
ক. সাধারণ ক্যাডার : সাধারণ ক্যাডারের প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার বিষয় ও নম্বর ন্বিরূপ :
(ক) বাংলা    ২০০
(খ) ইংরেজি    ২০০
(গ) বাংলাদেশ বিষয়াবলী    ২০০
(ঘ) আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী    ১০০
(ঙ) গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা    ১০০
(চ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি    ১০০
(ছ) মৌখিক পরীক্ষা    ২০০
সর্বমোট :    ১১০০
খ. প্রফেশনাল ক্যাডার : প্রফেশনাল ক্যাডারের প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার বিষয় ও নম্বর ন্বিরূপ :
(ক) বাংলা    ১০০
(খ) ইংরেজি    ২০০
(গ) বাংলাদেশ বিষয়াবলী    ২০০
(ঘ) আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী    ১০০
(ঙ) গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা    ১০০
(চ) সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা    ২০০
(ছ) মৌখিক পরীক্ষা    ২০০
সর্বমোট :    ১১০০

বিঃদ্রঃ যে সকল প্রার্থী সাধারণ ও প্রফেশনাল উভয় ক্যাডারের পদে পছন্দক্রম দিতে ইচ্ছুক হবেন তাদেরকে সাধারণ ক্যাডারের ৯০০ নম্বেরর  অতিরিক্ত প্রফেশনাল ক্যাডারের ২(চ) নং-এর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর গড়ে ৫০%, মৌখিক পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০% এবং লিখিত পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে ২৫% নম্বরের কম পেলে পরীক্ষার্থী উক্ত বিষয়ে কোনো নম্বর পাননি বলে গণ্য হবে।

০৪.  ভাইভা (মৌখিক পরীক্ষা)
মৌখিক পরীক্ষা প্রার্থীর চূড়ান্ত ধাপ। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই কেবল মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। একজন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে মেধাস্কোর করা হয়। অতএব যে কোনো প্রার্থীর জন্যই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর বুদ্ধিমত্তা, মানসিক সতর্কতা, সাহস, চরিত্রের শক্তি, নেতৃত্বের গুণাবলী প্রভৃতিসহ পাঠক্রমিক বিষয়কে বিবেচনায় নেয়া হয়।

০৫.  স্বাস্থ্যপরীক্ষা
পিএসসি কর্তৃক মনোনয়নের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রার্থীদেরকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল বোর্ডের সম্মুখে উপস্থিত হতে হবে। মেডিকেল বোর্ডে সম্মুখে পরীক্ষাকালীন সময়ে যে সকল পুরুষ প্রার্থীর উচ্চতা ৫ ফুট এর কম এবং যে সকল মহিলা প্রার্থীর উচ্চতা ৪ ফুট- ১০ ইঞ্চি এর কম হবে তারা কোনো ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য শারীরিকভাবে যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। পুরুষ প্রার্থীর ওজন ৪৫ কেজির কম এবং মহিলা প্রার্থীর ওজন ৪০ কেজির কম হলে তারাও অস্থায়ীভাবে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। প্রার্থীদেরকে বিধি অনুযায়ী দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন হতে হবে।

০৬.  পুলিশ ভেরিফিকেশন
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের সর্বশেষ ধাপ হলো পুলিশ ভেরিফিকেশন। পিএসসি কর্তৃক পরিচালিত পুলিশ বিভাগ থেকে প্রার্থীর যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে মতামতসহ পুলিশি রিপোর্ট সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয় এবং রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে গেজেট বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়। পুলিশি রিপোর্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে হলে  তিনি গেজেট থেকে বাদ পড়বেন। তাই এক্ষেত্রে প্রার্থীকে সতর্ক থাকা উচিত।
উপরিউক্ত সিঁড়িসমূহ সফলভাবে অতিক্রম করার পরই একজন প্রার্থী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম শ্রেণীর ক্যাডার হিসেবে তার কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্রটি হাতে পান।

 

তাহলে আর সময় নষ্ট না করে পুরোদমে চালিয়ে যান আপনার সর্বা্তক প্রস্তুতি। আর এক্ষেত্রে বিসিএস প্রিলিমিনারি সিরিজের (বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গাণিতিক যুক্তি, বাংলাদেশ বিষয়াবলী এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী) বইগুলো আপনার প্রস্তুতিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি বিষয়ক অন্যান্য নির্দেশনা-
১.    সব সময় সাথে একটা পকেট নোটবুক রাখা উচিত। যেখানেই কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে, নোটবুকে তুলে রেখে পরে সুবিধামতো সময়ে মুখস্থ করা যেতে পারে।
২.    বিগত বিসিএসে আসা এবং পিএসসি কর্তৃক গৃহীত অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো পূর্বেই পড়ে নিতে হবে। এতে প্রশ্নের ধরন বোঝা সহজ ও মনে রাখার সুবিধা হবে। এক্ষেত্রে প্রফেসর´স প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিশেষ সহায়িকা Professor´s Job Solution, নতুন বিশ্ব, প্রফেসর´স এমসিকি রিভিউ: প্রফেসর´স পিলিমিনারি ডাইজেস্ট এবং বিসিএস সিলেকটেড মডেল টেস্ট বইগুলো সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
৩.  অহেতুক কঠিন ও জটিল বিষয়ে সময় ব্যয় না করে আপনার কাছে যে বিষয় প্রিয় ও সহজ মনে হয় সেটিই বেশি করে আয়ত্তে আনুন। কারণ, প্রিলিমিনারিতে যত বেশি তথ্য আপনার আয়ত্তে আসবে, তত বেশি নম্বর পেতে সুবিধা হবে।
৪.  যে কোনো বিষয় একবার না পড়ে একাধিকবার পড়ার অভ্যাস করতে হবে। এতে তথ্য মনে রাখা সহজ হবে।
৫.   যারা ইংরেজিতে দুর্বল, তাদের ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এক্ষেত্রে গ্রুপ আলোচনা করা  যেতে পারে।
৬.  সর্বোপরি বিসিএস প্রস্তুতি একা একা নেয়ার চেয়ে গ্রুপভিত্তিক আলোচনা সবচেয়ে ফলপ্রসূ। এতে তথ্যের যেমন প্রবাহ হয়, তেমনি তথ্য মনে রাখাও সহজ হয়। তাই একা একা না পড়ে গ্রুপভিত্তিক পড়াশোনা করাই বাঞ্ছনীয়।

উপরিউক্ত আলোচনা-পর্যালোচনা থেকে অনুমান করা যায় যে, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সহজ ব্যাপার না হলেও খুব কঠিন নয়। আর তাই ভয় পাওয়া চলবে না। বরং প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি, অদম্য স্পৃহা ও ধৈর্য্যশীলতা দিয়ে এ চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করতে হবে। কারণ বিষয়টি আপনার জন্যই করা হয়েছে এবং এতে সফল হওয়ার যোগ্যতা আপনার আছে বলেই মনে করা উচিত। সরকারি প্রথম শ্রেণীর ক্যাডার হওয়ার Commitment নিয়ে আন্তরিকভাবে অভিযান শুরু করুন। সাফল্য নিশ্চিতভাবেই আপনার হাতের মুঠোয় ধরা দেবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।